আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : রবিবার ২৮শে জুন ২০২৬, ০১:০৬ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
নজরুলচেতনার অনন্য সাধক মাহমুদুল হাসানকে বিশেষ সম্মাননা খুলনা প্রতিনিধি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী এবং কালজয়ী কবিতা ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’-এর শতবর্ষ স্মরণে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজনে বরেণ্য নজরুলসংগীত শিল্পী মাহমুদুল হাসান-কে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করেছে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, খুলনা জেলা শাখা।
গত ২৭ জুন ২০২৬ বিকেলে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সংগীতানুষ্ঠানে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মাননা স্মারকে উল্লেখ করা হয়, নজরুলসংগীতের নিবেদিতপ্রাণ সাধক মাহমুদুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে সংগীতচর্চা, গবেষণা, শিক্ষকতা এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয় কবির সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে নিরলস ভূমিকা রেখে চলেছেন। ভারতের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। বর্তমানে তিনি ছায়ানটের শিক্ষক হিসেবে সংগীতশিক্ষা প্রদান করছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ নজরুলসংগীত সংস্থা, বাংলাদেশ গণশিল্পী সংস্থা এবং দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সংগীতচর্চা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
বাংলাদেশ বেতার এবং বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে দীর্ঘদিনের সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে তিনি শ্রোতাদের হৃদয়ে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। তাঁর কণ্ঠে নজরুলের দ্রোহ, প্রেম, সাম্য ও মানবতার বাণী নতুন মাত্রা লাভ করেছে বলে অনুষ্ঠানের বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, যে শিল্পী নিজ সাধনা দিয়ে একটি প্রজন্মকে সংস্কৃতির আলোয় আলোকিত করেন, তাঁকে সম্মানিত করা মানে আমাদের শিল্প-ঐতিহ্যকেই সম্মান জানানো। সেই স্বীকৃতির অংশ হিসেবেই মাহমুদুল হাসানের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা স্মারক।
অনুষ্ঠানের শেষে সম্মাননা প্রাপ্ত শিল্পী মাহমুদুল হাসান আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁর শিল্পসাধনাকে আরও দায়বদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করবে। তিনি আগামী দিনেও নজরুলসংগীতের চর্চা, সংরক্ষণ এবং প্রসারে নিজেকে নিবেদিত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সংগঠনের সভাপতি সাধন ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক মিনা মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত সম্মাননা স্মারকে শিল্পীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং সৃজনশীল সাংস্কৃতিক অভিযাত্রার অব্যাহত সাফল্য কামনা করা হয়।