আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : সোমবার ২৪শে আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
পটুয়াখালী হাসপাতালে রোগীদের খাবারে তেলাপোকার অভিযোগ, খাবার শুঁকে বিতর্কে বিএনপি নেতা
পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রোগীদের সরবরাহ করা খাবারে তেলাপোকা ও তেলাপোকার গন্ধ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে রোগীদের মধ্যে অসন্তোষের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর মধ্যেই রোগীদের খাবার চামচে তুলে গন্ধ শুঁকে দেখার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিতর্কে জড়িয়েছেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান।
গত শনিবার দুপুরে হাসপাতালে রোগীদের মধ্যে খাবার বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে খাবার চামচে তুলে শুঁকে দেখার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
মজিবুর রহমানের দাবি, রোগীদের অনুরোধেই তিনি খাবারের গন্ধ পরীক্ষা করে দেখেছেন। জেলা ছাত্রদলের এক নেতার বাবা পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাকে দেখতে হাসপাতালে গেলে রোগীদের মধ্যে খাবার বিতরণের বিষয়টি তার নজরে আসে।
মজিবুর রহমান বলেন, খাবারে তেলাপোকা বা তেলাপোকার গন্ধ থাকার অভিযোগ থাকলে সেই খাবার মুখে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তিনি শুধু চামচে করে সামান্য খাবার তুলে নাকের কাছে নিয়ে গন্ধ পরীক্ষা করেছেন। এটিকে কেন্দ্র করে একটি মহল অযথা বিতর্ক তৈরি করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে হাসপাতালের রোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বেডে তেলাপোকার উপদ্রব বেড়েছে। এতে রোগীদের পাশাপাশি হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সমস্যায় পড়ছেন।
রোগীদের খাবারেও তেলাপোকা পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। এর আগে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলরুবা ইয়াসমিনকে তেলাপোকা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলতে শোনা গেছে।
তবে খাবারে তেলাপোকা থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের বাবুর্চি মজিবর মিয়া।
বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান খাবার যাচাইয়ের সময় খাবার খেয়েছিলেন কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাবুর্চি প্রথমে দাবি করেন, তিনি খাবার খেয়ে প্রশংসা করেছেন। পরে চামচে করে খাবার তুলে মুখে দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, মজিবুর রহমান খাবার মুখে দেননি।
এ বিষয়ে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, শুধু রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবার নয়, সব ধরনের খাবারের মান ও নিরাপত্তার বিষয়েই সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোগীদের খাবারের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আনন্দ বাংলা