আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : সোমবার ২৪শে আগস্ট ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
প্রক্সি আসামি দিয়ে আদালতে হাজিরার মামলা: আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন আইনজীবী হাম্মাদ
রাজধানীর আদালতে ২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় প্রকৃত আসামির পরিবর্তে অন্য এক নারীকে ‘প্রক্সি’ হিসেবে হাজির করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন।
সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবী নিবেদিতা আহমেদ ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ নাসরিন সিকদারের বিরুদ্ধে ২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের মামলা করেন।
ওই মামলায় গত ১৬ জুন নাসরিন সিকদার আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁর জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। একই সঙ্গে পরবর্তী শুনানির জন্য ২০ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
এর মধ্যে গত ২৫ জুন মূল আসামি নাসরিন সিকদারের পরিবর্তে মনোয়ারা বেগমকে আদালতে হাজির করে জামিনের আবেদন করা হয়। ওই আবেদনে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন।
পরে আদালতের সন্দেহ হলে মনোয়ারা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে নথিপত্র ও পরিচয়পত্র যাচাই করে আদালত জানতে পারে, তিনি মামলার প্রকৃত আসামি নন।
আদালতে প্রকৃত আসামির পরিবর্তে হাজির হওয়ার অভিযোগে মনোয়ারা বেগমকে আটক করে পুলিশ। ঘটনার দিন রাতেই সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিয়া মো. ইব্রাহিম খলিল অপু বাদী হয়ে মামলা করেন।
মামলায় নাসরিন সিকদার, তাঁর পরিবর্তে আদালতে হাজির হওয়া মনোয়ারা বেগম এবং আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসাইনকে আসামি করা হয়।
মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে মনোয়ারা বেগম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, মূল আসামি নাসরিন সিকদার পলাতক রয়েছেন।
এই মামলায় গত ৩০ জুন হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সোমবার তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।
তাঁর পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়াসহ কয়েকজন আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন।
শুনানিতে আইনজীবীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গত ২৫ জুন হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থান করছিলেন। তাঁর নামের সিল ব্যবহার করে কে বা কারা প্রক্সি আসামিকে আদালতে আত্মসমর্পণ করিয়েছে। এ বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না এবং ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
পক্ষের আইনজীবীরা আরও বলেন, ঘটনার সময় হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন হাইকোর্ট বিভাগে অবস্থান করছিলেন।
শুনানি শেষে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, নাসরিন সিকদারের বিরুদ্ধে দায়ের করা চেক ডিজঅনার মামলাটি ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ তানিয়া সুলতানার আদালতে বিচারাধীন।
গত ২৫ জুন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মনোয়ারা বেগম প্রকৃত আসামি নাসরিন সিকদার পরিচয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানির সময় আদালত তাঁর নাম-ঠিকানা ও মামলার বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সঠিকভাবে উত্তর দিতে পারেননি।
পরে আদালতের সন্দেহ হলে তাঁকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নথিপত্র ও পরিচয়পত্র যাচাইয়ের পর নিশ্চিত হওয়া যায়, মনোয়ারা বেগম মামলার প্রকৃত আসামি নন। তিনি অন্যের পরিচয়ে আদালতে হাজির হয়েছিলেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, নাসরিন সিকদার ও আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন মনোয়ারা বেগমকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে প্রকৃত আসামির পরিবর্তে আদালতে হাজির হতে প্ররোচিত করেন।
অভিযোগে বলা হয়, মামলার নথিভুক্ত ওকালতনামায় হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন নিজের হাতে নাম লিখেছেন এবং একজন ভুয়া ব্যক্তিকে প্রকৃত আসামি হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করেছেন।
এতে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিচারিক কার্যক্রমে প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের পরিচয় ধারণ, জাল-জালিয়াতি এবং আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে আদালতে শুনানির সময় আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তাঁকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করা হয়েছে।