আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : সোমবার ২৪শে আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা, রাজনৈতিক সাহসের অভাব দেখছেন দেবপ্রিয়
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে সরকার রাজনৈতিক সাহস দেখাতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
তার মতে, বেতন কাঠামোর বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখলে সমস্যার সমাধান হবে না। বরং সিদ্ধান্ত নিতে যত দেরি হবে, পরিস্থিতি তত জটিল হয়ে উঠবে এবং এর প্রভাব সরকারের অন্যান্য কার্যক্রমেও পড়তে পারে।
সোমবার সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা বিষয়ক এক মিডিয়া সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সিপিডির আরেক সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান ও অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ছয় মাস পার হলেও সরকার এখনো সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা ধরা হলেও এতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হতে পারে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যে বেতন কাঠামোর প্রতিবেদন রেখে গেছে, সেটি পর্যালোচনা করে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের একটি সুপারিশ এসেছিল। শুরুতেই যদি ২০ থেকে ২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হতো এবং পরবর্তী সময়ে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য সময় নেওয়া হতো, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে সামাল দেওয়া যেত বলে মনে করেন তিনি।
তার মতে, এখন বিষয়টি যে পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তা সন্তোষজনক নয়। বেতন-ভাতার সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া প্রয়োজন।
সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে গিয়ে দেশের শিল্প খাতের পরিস্থিতিও তুলে ধরেছে সিপিডি।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশের তিনটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে ৬১ হাজার ৮৮১ জন কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় বেশ কিছু কাঠামোগত সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। একই সময়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতিও অনুকূলে ছিল না। বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবও ছিল।
তবে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি সমন্বিত ও তথ্যভিত্তিক দলিল তৈরি না করাকে তিনি দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এমন একটি দলিল থাকলে সরকারের বর্তমান কর্মকাণ্ড ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি মূল্যায়ন করা সহজ হতো।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নতুন সরকারের কাছে মানুষের দুটি বড় প্রত্যাশা ছিল—অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা। কিন্তু এ দুটি ক্ষেত্রেই কিছুটা অস্বস্তির জায়গা তৈরি হয়েছে।
সংস্কার কার্যক্রমেও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিভিন্ন কমিশন গঠনের কথা থাকলেও সেগুলোর সবগুলো বাস্তবায়ন হয়নি বলেও জানান তিনি।
সরকারের প্রতিশ্রুতি ও বিভিন্ন উদ্যোগ মূল্যায়ন করতে সিপিডি প্রায় ৩৬২টি পদক্ষেপের তালিকা তৈরি করেছে। এগুলোকে নয়টি ভাগে ভাগ করে ‘রিফর্ম ট্র্যাকার’-এর মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
সুশাসন সংক্রান্ত ১০৫টি ঘটনা মূল্যায়নের আওতায় রেখেছে সিপিডি। এর মধ্যে সরকারি এমপিদের প্লট ও গাড়ি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করছে সিপিডি।
মেধার ভিত্তিতে সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিছু ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
আনন্দ বাংলা