null
null
আপডেট : রবিবার ২৩শে আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
কলেরা প্রতিরোধে ৫১ লাখের বেশি মানুষকে টিকা দেবে সরকার
কলেরা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় মুখে খাওয়ার কলেরা টিকা (ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন) দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। শনিবার (২২ আগস্ট) থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্ধারিত এলাকায় এ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কর্মসূচিতে সহায়তা করছে গ্যাভি, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), আইএফআরসি, আইসিডিডিআর,বি ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ কর্মসূচির আওতায় ৫১ লাখের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক বছর বা তার বেশি বয়সী সবাই এ টিকা নিতে পারবেন। তবে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা এ টিকা নিতে পারবেন না।
মুন্সীগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল উপজেলায় এ টিকাদান কার্যক্রম চলছে।
ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর থানা এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের তেজগাঁও, খিলক্ষেত ও শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায়ও টিকা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রথম ডোজ দেওয়া হচ্ছে ২২ আগস্ট থেকে। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে। কলেরা থেকে কার্যকর সুরক্ষা পেতে উপযুক্ত ব্যক্তিদের দুই ডোজ টিকাই গ্রহণ করতে হবে।
কলেরার টিকা নিতে উপযুক্ত নাগরিকদের ভ্যাক্সইপিআই ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য দেওয়া কিউআর কোড স্ক্যান করেও প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করা যাবে।
নিবন্ধনের মাধ্যমে নাগরিকরা ন্যাশনাল হেলথ আইডি কার্ড তৈরির সুযোগ পাবেন। ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে এই আইডি সহায়ক হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, শুধু টিকা নয়, কলেরা প্রতিরোধে নিরাপদ পানি পান, সঠিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নির্ধারিত সময়ে টিকা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর। একই সঙ্গে কর্মসূচি সফল করতে স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবক, কমিউনিটি নেতা ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।